সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান ৩,০০০ টাকা, সাধারণ নাগরিকের সন্তান ১,০০০ টাকা—এ কেমন বৈষম্য?

 

সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান ৩,০০০ টাকা, সাধারণ নাগরিকের সন্তান ১,০০০ টাকা—এ কেমন বৈষম্য?
Executive Director
 
(Please share my feature, but kindly do not copy it and present it as your own. I have noticed that someone has copied my work and tried to use or present it as their own. I sincerely request everyone to respect the original work and give proper credit to the creator. Thank you for your understanding.)
 
একই দেশের দুই প্রতিবন্ধী শিশু—একজনের বাবা সরকারি চাকরিজীবী, অন্যজনের বাবা সাধারণ নাগরিক। দুজনেরই চিকিৎসা, থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা, পুনর্বাসন ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন। কিন্তু একজনের জন্য মাসিক ভাতা ৩,০০০ টাকা, আর অন্যজনের জন্য মাত্র ১,০০০ টাকা—এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়সংগততা ও বৈষম্যের প্রশ্ন তৈরি করে।
 
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ বলছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারী। অনুচ্ছেদ ১৯(২) সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার কথা বলে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি আইনভাণ্ডারেও আইনটি বিদ্যমান।
 
বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক সনদ (UNCRPD/CRPD)-এর রাষ্ট্রপক্ষ। CRPD-এর Article 5 সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি এবং Article 28 সামাজিক সুরক্ষা ও পর্যাপ্ত জীবনযাত্রার অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ সরকারও জাতিসংঘের কাছে জানিয়েছে যে সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে প্রতিবন্ধী অধিকার সুরক্ষার আইনগত কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
তাই প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক—
প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রয়োজন কি তার বাবা সরকারি চাকরি করেন, নাকি সাধারণ নাগরিক—তার ওপর নির্ভর করবে?
অবশ্যই নয়।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩,০০০ টাকা ভাতা চালু করা হলে আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের প্রতিবন্ধী সন্তানদের ১,০০০ টাকার ভাতাও অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বৃদ্ধি করা উচিত।
বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, গুরুতর প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, একাধিক প্রতিবন্ধিতা এবং যেসব শিশুর নিয়মিত থেরাপি ও সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন—তাদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক উচ্চতর ভাতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রের সহায়তা চাকরির পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজন ও অধিকারের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান যদি ৩,০০০ টাকা পেতে পারে, তাহলে সাধারণ পরিবারের প্রতিবন্ধী সন্তানকে ১,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখার নীতিটি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
আমাদের দাবি:
সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা বৃদ্ধি হলে সাধারণ জনগণের প্রতিবন্ধী ভাতাও সমানভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।
 
কারণ—
প্রতিবন্ধিতা কোনো শ্রেণি দেখে আসে না।
থেরাপির খরচ চাকরি দেখে কমে না।
চিকিৎসার প্রয়োজন বেতন গ্রেড দেখে বদলায় না।
অধিকারও নাগরিকের পেশা দেখে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়।
আসুন, ৯ম পে-স্কেল ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাই, যাতে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে হয় প্রতিবন্ধীবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র।

Comments

Popular posts from this blog

Training @IER, Dhaka University

শুধু থেরাপি নয়, বিশেষ শিক্ষকের হাত ধরেই খুলে যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সম্ভাবনার দুয়ার

Moonflower Autism Foundation's Anniversary Celebration